Tuesday, March 31, 2015

শিশুর পেটে ব্যথা হলে কি করবেন



আপনার শিশু আপনার কাছে পৃথিবীর সবচাইতে বড় সম্পদ। তার কোন রোগব্যাধি হলে আপনি হাশপাস করতে থাকেন। শিশুদের অনেক সময় পেটে ব্যাথা হয়। এই ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দিয়ে এর সমাধান খোঁজেন। নানান জনের কাছে পরামর্শ নেন। প্রায়ই পেটব্যথা হলে অনেক লোক ই ভাবেন—ও কিছু নয়, মনে হয় কৃমি হয়েছে। তবে পেটব্যথা হলেই যে কৃমি হবে এটা ভাবা ঠিক নয়। শিশুদের পেটব্যথার অনেক কারণ আছে, যেমন: চকলেট, জুস খেলে কিংবা বাইরের জীবাণু পেটে গেলে তার পেটে ব্যথা করে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভারী খাবারও অনেক শিশুর সহ্য হয় না। পেটে সংক্রমণ বা গ্যাস
খাবারে অ্যালার্জি
ডায়রিয়া
কোষ্ঠকাঠিন্য
প্রস্রাবে সংক্রমণ
বয়ঃসন্ধিকালের সমস্যা
টিউমার, অ্যাপেন্ডিসাইটিস সহ বিভিন্ন রকমের সার্জিক্যাল সমস্যাতেও শিশুর পেটে ব্যথা হতে পারে। বিষয়টিকে তাই উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।
পেটে গ্যাস অথবা সংক্রমণ হলে উপযুক্ত ওষুধে সেরে যায়, তবে শিশুকে এ ধরনের সমস্যা হতে বাঁচার উপায় শেখানো দরকার। খাওয়ার আগে-পরে এবং টয়লেট ব্যবহার করার পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও মুখে নোংরা হাত না দেওয়া ইত্যাদি প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কৃমি হয়ে থাকলে পেটব্যথার সময়টিতে কৃমির ওষুধ না দিয়ে ব্যথা কমার দু-তিন দিন পরে ওষুধ খাওয়ানো ভালো। সার্জিক্যাল কারণ থাকলে শিশুবিষয়ক সার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শিশুর পেটব্যথা অনেক সময় মানসিক কারণেও হয়। অবাক করা বিষয় হচ্ছে শিশু স্কুলে যেতে না চাইলে, পড়া ভালো না লাগলে, পরিবারে অশান্তি থাকলে, বন্ধুরা কোনো বিষয় নিয়ে উত্ত্যক্ত করলে, হঠাৎ বাসা পরিবর্তন বা বন্ধু পরিবর্তন ইত্যাদি কারণেও পেটব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই ব্যথা কিন্তু ইচ্ছাকৃত নয় বরং তার মনের ভিতরে যে টানাপোড়েন চলে, সেটার ই বহিঃপ্রকাশ ঘটে পেটে ব্যথার মাধ্যমে। এসব ক্ষেত্রে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কিছু পাওয়া যায় না। তবে সাধারণ কিছু লক্ষণ দেখে অনুমান করা যায়, তার ব্যথা মানসিক নাকি কোনো শারীরিক সমস্যার কারণেই হচ্ছে। লক্ষণগুলো হলো:
১. তিন বছরের নিচে শিশুর পেটে ব্যথা হলে তা সাধারণত রোগের কারণেই হয়ে থাকে।
২. রোগের কারণে ব্যথা হলে শিশুরা সুনির্দিষ্টভাবে ব্যথার জায়গাটা দেখাতে পারে আর যদি মানসিক কারণে হয় তবে সেভাবে দেখাতে পারে না অথবা একেকবার একেক স্থানে দেখায়।
৩. ব্যথার সঙ্গে জ্বর, র‍্যাশ, হাড়ে ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা হলে বুঝে নিবেন, অবশ্যই সে ব্যথার নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে।
৪. ব্যথার কারণে শিশুর ঘুম ভেঙে গেলে কখনোই তা মানসিক কারনে নয়।
মনোরোগের কারণে ব্যথা হলে শিশুকে মানসিক সমর্থন দিতে হবে। বকাঝকা না করে সঠিক কারণটা বের করতে হবে এবং অবশ্যই শিশু ও কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন।

ব্যথা যদি খুব তীব্র হয়, অনবরত বমি হয়, পেট শক্ত হয়ে যায়—তখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। সুনির্দিষ্ট কারণ জানার আগে শিশুকে কোনো কিছুই খাওয়ানো উচিত নয়।

সূত্রঃ
ডা. আবু সাঈদ
শিশু বিভাগ,
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

tags: শিশুর পেটে ব্যাথা, বাচ্চাদের পেটে ব্যাথা হলে কি করবো, শিশুর পেটে সমস্যা, শিশুর পেটে ব্যাথার কারন, shishur pete betha, bacchader pete betha hole ki korbo, shishur pete shomossha, shishur pet bethar karon

Wednesday, March 25, 2015

পেটের কিছু সমস্যা নিয়ে আমাদের মধ্যে বিদ্যমান কুসংস্কার



আমাদের মধ্যে কুসংস্কার নামক মানবসৃষ্ট ভাইরাস টি সর্বদা প্রভাব বিস্তার করে। এমন কোনো মানুষ পাওয়া যাবে না যে কিনা জীবনে একবারও কুসংস্কারের বলি হন নি। পেটের নানান সমস্যা নিয়ে আমাদের মধ্যে রয়েছে কিছু বিভ্রান্তি বা কুসংস্কার। যেমন-

বেশি মসলাযুক্ত খাবার খেলে আলসার হয়ঃ

চিকিৎসকেরা বলছেন, মসলা কিংবা মসলাদার খাবার খাওয়ার সাথে পাকস্থলীতে আলসার হওয়ার তেমন কোনো সম্পর্ক নাই। কেননা, পাকস্থলীর আলসারের সৃষ্টি করে হ্যালিকোব্যাকটার পাইলোরি নামের জীবাণু—এ কথা কয়েকদিন আগে প্রমাণিত হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যথানাশক ওষুধ বা অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধও আলসার হওয়ার কারণ হতে পারে। অধিক মসলাযুক্ত খাবার গ্যাস্ট্রিক-আলসারের রোগীর উপসর্গ হয়তো কিছুটা বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু এটি রোগটির মূল কারন নয়।

ধূমপান করলে পেট ক্লিয়ার হয়ঃ

ধূমপান কারীরা প্রায়ই বলেন, ধূমপান না করলে তাঁদের পেট পরিষ্কার হয় না, সিগারেটে এক টানেই নাকি পেটের গ্যাস কমে যায়। কিন্তু ব্যাপারটা একেবারেই উল্টো। সিগারেটের ক্ষতিকর উপাদান নিকোটিন মানুষের খাদ্যনালির স্ফিংটার বা দরজাকে অকার্যকর করে ফেলে। ফলে অ্যাসিডিটির পরিমান আরও বেড়ে যায়। তার ওপর ধূমপান করলে খাদ্যনালির প্রদাহ তৈরি হয়। তাই পরিপাকতন্ত্রের উপর ধূমপানের প্রভাব কোনোমতেই ভালো নয়।

দৈনিক পায়খানা না হওয়া খারাপ?

প্রতিদিন পায়খানা হতেই হবে—এমন কোনো কথা নেই। মানুষের মলত্যাগের হার একেক সময় একেক রকম হতে পারে। এতে নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নেই। কারও দিনে দুই তিনবার, কারও পুরো সপ্তাহে তিন চারবার মলত্যাগ করতে হয়—দুটোই ব্যাপারই স্বাভাবিক। তাই একদিন কোষ্ঠ পরিষ্কার না হলেই চিন্তিত হবার কিছু নেই।

 খাবার সময় বেশি পানি পান করাঃ

খাবার সময় বা এর আগে কিংবা পরে বেশি করে পানি পান করলে হজম ভালো হয়—এই ধারণাটাও ভুল। সারা দিনে আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করতে হবে ঠিক, তার মানে এটা ঠিক নয় যে খাওয়া দাওয়ার সময় বারবার পানি খেতেই থাকবেন। বরং যাঁদের অ্যাসিডিটি হয়ে পেট ফুলে যায়, তাঁদের খাওয়ার মধ্যে বেশি পানি পান না করাই ভালো।

টেনশন করলে আলসার হয়ঃ

অনেকেই বলেন, দুশ্চিন্তা আর টেনশনের কারণেই পেটে আলসার হয়েছে। এখানেও সেই বিভ্রান্তি—পাকস্থলীর আলসারের সুনির্দিষ্ট কারণ মূলত জীবাণুঘটিত। তবে উদ্বেগ বা টেনশনের সাথে বদহজম, আইবিএস ইত্যাদি রোগের সম্পর্ক থাকতে পারে।

সূত্রঃ
মেডিসিন বিভাগ,
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ

tags: পেটের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক, এসিডিটি, তরকারীতে মসলা বেশি খেলে কি পেটে গ্যাস্ট্রিক হয়, ধুমপান সিগেরেট খেলে কি পেট পরিস্কার হয়, দৈনিক কয়বার পায়খানা হওয়া ভাল, খাওয়ার সময় পানি বেশি খাওয়া ভাল, টেনশন দুশ্চিন্তা করলে কি গ্যাস্ট্রিক আলসার হয়, peter shomossha problem, moshola beshi khele ki gastric hoy, daily koybar paykhana howa valo, khaoar somoy pani beshi khaoa ki valo, tension korle ki gastric ulcer hoy

Tuesday, March 24, 2015

মোটা শরীর রোগের কারখানা

er shomossha

মেদবহুল শরীর, স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সমস্যা। উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তের মধ্যে চর্বির আধিক্য বা হৃদরোগ ইত্যাদি সমস্যার কারণ এই অতিরিক্ত ওজন। এটি আরও বিবিধ রোগব্যাধির জন্য দায়ী।
শরীরের ওজন যদি উচ্চতা অনুযায়ী যতটুকু থাকা দরকার তার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তখন মানুষের সুস্থতা এবং সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়। মানসিক ও শারীরিকসহ নানা রোগে প্রাত্যহিক কাজেও তখন অনেক রকমের ব্যাঘাত ঘটে। অল্প পরিশ্রমে ক্লান্তি পেয়ে বসে, সক্ষমতাও কমে যায়। যে কোনো কাজ নির্বিঘ্নে করা কঠিন হয়ে পড়ে। আর তখনই দেখা দেয় নানারকম শারীরিক সমস্যা। যেমন:

অস্টিওআর্থ্রাইটিস অথবা গেঁটে বাত: অস্থিসন্ধি আমাদের দেহের ভার বহন করে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ওজন বহন করার ফলে অস্থিসন্ধিতে পরিবর্তন দেখা দেয়। যার কারনে নানা ধরনের বাত ব্যথা হয়। মেরুদণ্ড, কোমর ও হাঁটুতে ব্যথা কিংবা প্রদাহ হতে পারে। গেঁটে বাতের ফলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এ ব্যাপারটিও স্থূলতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

যকৃতের অকার্যকারিতা: যকৃতের একটি  প্রধান সমস্যা হলো যকৃতে চর্বি জমে যাওয়া বা ফ্যাটি লিভার। এ থেকে যকৃতের নানাবিধ সমস্যা, এমনকি লিভার সিরোসিস রোগ পর্যন্ত হতে পারে।

পিত্তথলির সমস্যা: মোটা মানুষের পিত্তথলির মধ্যে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সাধারণ দেহের মানুষের তুলনায় তাদের, বিশেষ করে যদি ৪০ বছরের অধিক বয়সী নারী হন, পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

ক্যানসার: স্থূলতার সাথে ইদানীং বিভিন্ন রকমের ক্যানসারের সম্পৃক্ততাও মিলেছে। খাদ্যনালি, অন্ত্র, যকৃৎ, স্তন এবং লসিকা গ্রন্থির ক্যানসারের সাথেও স্থূলতার সম্পর্ক আছে।

পায়ের শিরায় সমস্যা: স্থূলকায় লোকের পায়ের শিরা অনেক সময় ফুলে ওঠে। একে বলা হয় ভ্যারিকোস ভেইন। জটিলতা বেড়ে গেলে এ থেকে মুক্তির জন্য অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হয়।

শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা: নাক ডাকা ও ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাস  বন্ধ হয়ে যাওয়ার (স্লিপ এপনিয়ার) বড় কারণ হচ্ছে স্থূলতা। স্লিপ এপনিয়ায় রোগীর হৃদ রোগ, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

বন্ধ্যাত্ব: স্থূলতার কারণে অনেক সময দেখা যায়় সন্তান ধারণে সমস্যা হয়। স্থূল কিশোরী ও যুবতীদের ডিম্বাশয়ে সিস্ট ও অনিয়মিত মাসিক থেকে শুরু করে বন্ধ্যাত্ব এবং দেহে অবাঞ্ছিত লোম ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।
তাই শুধু হৃদরোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপই নয়, বাড়তি ওজন কমিয়ে আপনি নানাবিধ জটিল সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারেন।

সূত্রঃ
ডিন,
মেডিসিন অনুষদ,
বিএসএসএমইউ

tags: মোটা শরীরের সমস্যা, মোটা হলে কি রোগ, স্বাস্থ্য বাড়লে কি কি সমস্যা হয়, স্বাস্থ্য বেশি হলে কি সমস্যা হয়, মেদ সমস্যা, ওজন বেশি হলে কি হয়, fat body, mota hole ki ki problem hoy, shastho barle ki rog hoy, mota shorir

দক্ষিণ আফ্রিকা এতই দূর্ভাগা !



বরাবরের মত এবারো চোকার্স দক্ষিণ আফ্রিকার ভাগ্য তাদের সংগ ত্যাগ করলো। জয় পরাজয় নির্ধারনের সময় দক্ষ ফিল্ডার হার্শেল গিবসের সহজ ক্যাচ ড্রপ করার মত অনেক উদাহরন পুর্বে দেখেছিল বিশ্ববাসী। এবার দক্ষিন আফ্রিকা দলটি পূর্বের চেয়ে অনেক ব্যালেন্সড ছিলো। র‍্যাংকিং এ হাশিম আমলা, ডি ভিলিয়ার্স, ডুমিনি, স্টেইন, মর্কেল এর মত প্রথম সারির বোলার কিংবা ব্যাটসম্যান থাকা সত্তেও সেই দুর্ভাগ্য বরন করতে হল। 

এবার অবশ্য প্রব্লেমটা ছিলো প্রকৃতি গত। বৃষ্টি হানা না দিলে হয়তো এই দুর্ভাগ্য তাদের বরন করতে হতো না। এতো সুন্দর ভাবে ব্যাটিং চলছিলো। শেষ দিকে বৃষ্টি এসে হিসাব নিকাশ দিলো পালটে। নিউজিল্যান্ড এর আনবিটেন পারফরমেন্স এর সাথে বৃষ্টিজল আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিলো। ফাইনালে নিউজিল্যান্ড।

এ পর্যন্ত ৭ বার সেমিফাইনাল খেলেছে নিউজিল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা ৩ বার। এ হিসেবে নিউজিল্যান্ডকেও চোকার্স বলা যায়। তবে এবার তাদের অনেক বড় মওকা। 

বাংলাদেশি ক্রিকেট ফ্যানরা বোধ করি আজকে দুই দলকেই সমান ভাবে সমর্থন করেছে। ২৬ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ভারত পরাজিত হোক, এটাও অনেকেই চাইছেন। কারন কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের পক্ষে যাওয়া একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সম্ভাব্য জয়কে থামিয়ে দিয়েছিলো। সম্ভবত বেশিরভাগ বাংলাদেশি ই চাইবেন এবারে ফাইনালে দুই হোস্ট নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হোক। আর এটা তারা ডিজার্ভ ও করে।

ডায়াবেটিসে ত্বকের যত্ন



ডায়াবেটিস রোগীর সর্বদা বাড়তি যত্নের প্রয়োজন । শুধু মাত্র খাদ্যাভাস বা শরীর চর্চাই নয়, এ রকমের রোগীর ত্বকের ক্ষেত্রেও আলাদাভাবে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এই সময়টাতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।
শুষ্ক ত্বকের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যকর খাবার ও ব্লাডের সুগার নিয়ন্ত্রণই শেষ কথা নয়। সুবাসবিহীন সাবান ও শ্যাম্পু মেখে গোসল, শুষ্ক ত্বক প্রতিরোধের একমাত্র উপায়ও নয়। চাই ত্বকের আরাম ও ফ্রেশ লুকের জন্য আরও ব্যবস্থা।
১.
খাবারে যেন থাকে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর চর্বি, ওমেগা-৩ তো বটেই। তৈলাক্ত মাছ, টফু, ওয়ালনাট, ফ্ল্যাক্সিড, পালংশাক ইত্যাদি।
২.
ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করার বেস্ট সময় স্নানের পর, যখন ত্বক ভেজা থাকে। রয়েছে নানা ধরনের লোশন, যেমন লুব্রিডার্ম, কেটাফিল, গোল্ড বন্ড, কিউরেল ইত্যাদি। খুব শুষ্ক ত্বকের জন্য ঘন তেলতেলে উপশমক কার্যক্র, এগুলোর মাঝে আছে অ্যাকোয়াফর, ভেসেরিন, ক্রিমকো। যেসকল ময়েশ্চারাইজার ল্যাকটিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ, যেমন এমলাকটিন, ল্যাকহাইড্রিন এবং ইউরিয়াসমৃদ্ধ ইউবিক্স, সিয়ারমল—সেগুলো খারাপ না।
৩.
জলপাইয়ের তেল শুষ্ক ত্বককে নরম করে, আর্দ্র করে। ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার আগে জলপাই তেলের পাতলা একটি প্রলেপ লাগাতে পারেন। গোসল করার পূর্বে জলপাই তেল দিয়ে শরীর ম্যাসেজ করতে পারেন ৩০ মিনিট। গোসলের পর ব্যবহার করবেন ময়েশ্চারাইজার। জলপাই তেলের পরিবর্তে বাদাম তেলও ব্যবহার করা যায়।
৪.
দুধের রয়েছে প্রদাহরোধ করার গুণ। দুধে রয়েছে ল্যাকটিক অ্যাসিড, যা ত্বককে আর্দ্র রাখবে এবং মৃত কোষও ঝরাবে। ঠান্ডা দুধে ভিজিয়ে নিয়ে একটি ছোট ও নরম তোয়ালে শুষ্ক ত্বকের উপর রাখুন ৫-১০ মিনিট। এরপর অল্প গরমজলে ভেজা তোয়ালে দিয়ে ধুয়ে ফেলুন জায়গাটি।
৫.
চার টেবিল চামচ দুধে কয়েক ফোটা লেবুর রস ও গোলাপজল মিশান। ত্বকে আলতোভাবে ঘষুন। এরপর ১০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করুন, ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। দিনে দুইবার করুন।
৬.
গোসলের পর ভেজা ত্বকে ব্যবহার করুন বাদাম তেল বা নারকেল তেল। প্রতিদিন ব্যবহার করুন, বেশ কার্যকর। ঘুমাতে যাওয়ার আগে শরীরে গরম নারকেল তেল মেখে নিলেও ভালো, সকালে ধুয়ে ফেলুন।
৭.
অ্যাভোকাডো স্মুদি খেতে পারেন প্রতিদিন। এর স্বাস্থ্যকর চর্বি ত্বককে রাখে ভেজা ও সজল। অ্যাভোকাডো পেস্ট মাখতে পারেন শরীরে, ধুয়ে ফেলুন। ১৫ মিনিট পর।
৮.
ডায়াবেটিসের রোগীকে দীর্ঘ সময় ধরে স্নান করতে বারণ করা হয়। হালকা গরমজলে বাদাম তেল, জলপাই, নারকেল বা এসেনশিয়াল তেল মিশিয়ে গোসল করলে ত্বক শুষ্ক হবে না।
৯.
ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক চামচ বাদাম তেল এক গ্লাস গরম দুধে দিয়ে পান করুন। এতে সতেজ অনুভব করবেন।

সূত্রঃ পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস বিভাগ, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল।­

tags: ডায়াবেটিস, ডায়াবেটিকস, ডায়াবেটিস স্কিন, ডায়াবেটিসে করনীয়, ডায়াবেটিস হলে ত্বকের জন্য কি করবো, diabetes patient skin care, diabetes hole toker jotno, diabetes e toker jotne koronio